27 Oct 2020 00:00:00 AM শিরোনাম:
আমার ওপর ভরসা রাখুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ বছরে পা দিল দেশের প্রাচীনতম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগএক নজরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিশোকাবহ আগষ্ট বাঙ্গালী জাতির শোকের মাস।প্রেমর টানে আমেরিকান নারী এখন লক্ষীপুরে কুমিল্লা চাঁন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা!কুমিল্লা জজকোর্টে বিচারকের সামনে আসামির ছুরিকাঘাতে স্বাক্ষী নিহতপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষ্যাত কোরীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে তিন চুক্তি সই ইমরান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ইন্দিরা না ফেরার দেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদরাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষ্যাত বন্যা মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাদেশটা অস্বাভাবিক থাকুক সেটা কিছু মানুষ পছন্দ করে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাএক সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে সৌদিআরব পৌঁছালেন ৩৪ হাজার ৭৪৪ হজযাত্রীশেষ বলের নাটকে জয় হলো মুম্বাইয়েররোজার নিয়ত ও সেহেরী-ইফতারের দোয়াসাহসী কন্ঠের সম্পাদক রায়হান খানের মাতৃবিয়োগ।কুমিল্লায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহতশ্রীলঙ্কা থেকে জায়ানের মরদেহ আসবে মঙ্গলবার: শিল্পমন্ত্রীপ্রজন্মের প্রতি ! নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আহলে সুন্নাতের বিক্ষোভ! আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু 'র ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী! জনপ্রিয়তায় হিলারি কে পেছনে ফেলেছেন শেখ হাসিনা! চলছে ডাকসুর ভোট গ্রহন! হযরত রমজান আলী মজনো ফকিরের ৪০ তম ওরুশ মোবারক অনুষ্ঠিত শুধু আইন করে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই স্বাধীনতার মূল ঘোষণা দিয়েছিলেন: শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে কোথাও কোন ধরণের অরাজকতা আমরা বরদাস্ত করবো না! আইজিপি আ'লীগের আমলেই নারীর অধিকার সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এম,পি বাহারচাঁন্দপুর মধ্যম পাড়ায় ১০ তম সুন্নী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত! ৩ এপ্রিল পবিত্র শবে মেরাজ! আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চআব্দুল জলিলের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বাষির্কী আজ! বানসালির ছবিতে ঐশ্বরিয়া রায় ও অভিষেক বিএসএমএমইউতে নেয়া হবে খালেদা জিয়াকেসম্পূর্ণভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের! অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে! প্রধানমন্ত্রীআবার মিউজিক ভিডিও নিয়ে আসছেন ড. মাহফুজসিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কে! আইসিইউতে ভর্তি সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরউপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লায় নৌকার প্রার্থী হলেন যারা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা উত্তরের নব-নির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাৎ কুমিল্লায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত! বইপ্রেমী পালন সরকার আর নেই! অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ! বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাচ্ছে আতিকুল ইসলাম! শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন চলছে! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালরাজধানীর দুই সিটিতে ভোট গ্রহন শুরু! আমার গাড়ির বহর ৫২ থেকে ৮টিতে নামিয়ে এনেছি: প্রধানমন্ত্রীআরো কয়েকদিন থাকতে পারে ঝড়ো আবহাওয়া! এখন থেকে অনলাইনে পাওয়া যাবে ভূমির আরএস খতিয়ান! ভূমিমন্ত্রী চান্দিনায় কাবার্ড ভ্যান কেড়ে নিলো তিন পথচারীর প্রান! নববধুর ছুরির আঘাতে বাসরঘরে আহত বর! সর্বাত্মক যুদ্ধ করবে ভারত -পাকিস্তান! ১৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ! ঝড়-বৃষ্টির জন্যও আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি! ওবায়দুল কাদেরপাকিস্তানের সেনাবাহিনী কে প্রস্তুত থাকতে ইমরান খানের নির্দেশ২৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থী নিয়ে নৌকাডুবিমুরাদনগরে রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করার দায়ে যুবক আটককাঁদলেন,কাঁদালেন চাইলেন ক্ষমা ! কন্ঠ শিল্পি আসিফ আকবরকুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন! সভাপতি রিন্টু,সাধারন সম্পাদক পিয়াসএমন ভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো যেন সাড়া বিশ্ব তাকিয়ে থাকে! প্রধানমন্ত্রীআজ ২৫ শে ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডির ১০ বছর! কীভাবে বিমানে উঠল অস্ত্রধারী!ভাগিনাকে নিয়ে উধাও দুই সন্তানের সুন্দরী জননী! কুমিল্লা জুরে আগুন আতঙ্ক,২৪ ঘন্টায় পৃর্থক ৩ স্থানে অগ্নিকান্ড! ৬ মে থেকে পবিত্র মাহে রমযান শুরু! চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী 'র শোকমহান ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলীহোটেলের সব পুড়ে ছাই, শুধু অক্ষত আছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.)’!জেনে নিন চকবাজারের আগুন লাগার কাহীনি! মহান একশে ফেব্রুয়ারি শহীদের স্মরনে কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা! মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে স্বপ্ন ছুঁই পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন! রাজধানীর চকাবাজারে অগ্নিকান্ড ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধারএকুশের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাহসী কন্ঠ পরিবারের শ্রদ্ধা!একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনমহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে জি,এস পিন্টু 'র শ্রদ্ধাঞ্জলীAlvi Travels & Toursশপথ নিলেন কুমিল্লার অগ্নিকন্যা আঞ্জুম সুলতানা সীমা! বিশ্ব ফুটবলের একমাত্র জিনিয়াস লিও মেসিপ্রবাসীদের আইন মেনে চলতে বললেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকুমিল্লায় রিফাত নামের এক শিশুর গায়ে আগুন দিলো সৎ মামুক্তিপণের টাকা না পেয়ে কুমিল্লা কোটবাড়িতে স্কুল ছাত্র খুনআজকের বিজনেস বাংলাদেশ কুমিল্লা ব্যুরো অফিস উদ্বোধন কাল দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল চাঁদবাঁধ নির্মানে অনিয়ম হলে ঘাড় ধরে পানিতে চোবাবো! কুমিল্লার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান; ৩ টি সিলগালা, আটক ১ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো কুমিল্লা মাত্রা ৪.৭কুমিল্লায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ নিহত ৫ আহত ২০ জন! কুমিল্লা বিভাগ কুমিল্লা নামেই চাইবো অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল! আত্মসমর্পণ করলেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীকবি আল মাহমুদ আর নেই! বোমা ভেবে সাড়ারাত পুলিশি পাহাড়া অতপর দেখা পেল বেগুনের! পথ শিশু ও দুঃস্থ নারী পুরুষের সাথে স্বপ্ন ছুই কুমিল্লার ভালোবাসা দিবস উদযাপন! ফাঁসিতে ঝুলে কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ ছাত্রের আত্নহত্যা! জার্মানির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা!বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আলহাজ্ব ওমর ফারুকের জন্মদিন! মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কমান্ডার বাবুলকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কামান্ড কুমিলঅবশেষে সংসদীয় কমিটিতে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক! আজ পহেলা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্তের আগমন!এফবিসিসি আই এর সভাপতি হতে যাচ্ছেন শেখ সেলিম পুত্র শেখ ফাহিম!নেহা কাক্করের নতুন বাংলোতে কী আছে?বঙ্গভবনে ‘ফাগুন হাওয়ায়’পুলিশের কাছে গেলেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’!বেতনের টাকা তুলে না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা!চোরাকারবারিদের হামলা, বিজিবির গুলিতে নিহত ৩সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমনে আনসার ও ভিডিপিকে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানএ আর রহমানের সাথে হাবিব ওয়াহিদ এর সাক্ষ্যাত! খুলনায় সড়ক দূর্ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৫ নেতা নিহত!এজাজ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে মানব বন্ধন!২৭ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য সহ কুমিল্লায় আটক ২দূর্ঘটনায় আহত পূর্ণমা ও ফেরদৌস ! ৪০ বছর আগের দুই ঘটনায় সংরক্ষীত আসনে এমপি হচ্ছেন সুবর্ণা মুস্তফা! ৩ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কবরের জমি! ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে স্বেচ্ছাসেবকলীগের বর্ধিত সভায় এম,পি বাহারউইন অর উইন কুমিল্লা,হারলো ঢাকা দেখলো দেশ! কুমিল্লা জুরে আনন্দ মিছিল সংরক্ষিত আসনে কুমিল্লার সংসদ সদস্য আফজল খান কন্যা সীমা!ঢাকাকে ২০০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কে অভিনন্দন জানিয়ে গাংচর যুবসমাশনিবার সাড়াদেশে ভিটামিন 'এ ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আড়াই কোটি শিশু কে।সংসদীয় কমিটির সভপতি হলেন সাবেক মন্ত্রীরা! আমার লেখা এই বইটি একদিন না একদিন আপনাদের কাদঁবে! হিরো আলমমাধুর ভান্ডারকারের পরবর্তী ছবিতে শাহরুখ খান!কাল বিপিএল এর ফাইনালে দুই বন্ধুর লড়াইসংসদীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন এম,পি বাহাররুবেলের ঝলকের পর রাসেল রনির ব্যাট এ ফাইনালে ঢাকাক্যান্সার রোগে আক্রান্ত আব্দুল্লাহ-আল মামুন এর পাশে দাঁড়িয়েছেন আব্দুল বারিক খাঁন রানামামলা নিষ্পত্তির পর জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হবে! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকুমিল্লায় বাস-আটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ! নিহত ১ জনমোটরসাইকেলে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুঘর্টনায় যুবক নিহতইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপিঅর্থমন্ত্রী একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি--মনমোহন প্রকাশকুমিল্লায় নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে প্রাণ গেলো শিশুর শাজাহান খান সংসদীয় কমিটির সভাপতিম্যাচ জেতানো বোলিংয়ে সেরা দেশিরাপ্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে মাশরাফি বিশ্বের অর্ধেক গরিব বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশেএলজি আরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কে জি,এস পিন্টুর ফুলেল শুভেচ্ছাবাঁচতে চায় আব্দুলাহ-আল মামুন।দেশের মানুষের সম্পদ বিদেশিদের কাছে তুলে দিবো,এ নীতি নিয়ে আমরা বড় হইনি:প্রধানমন্ত্রীবাংলাদের জনগনের সম্পদ বিদেশের কাছে তুলে দিবো এই নীতি নিয়া আমরা বড় হইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসি�২৮ হাজার নারীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে:শিক্ষামন্ত্রীকুমিল্লায় স্বামী-স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে প্রতিবেশি খুন দ্বিতীয় বারের মত বিপিএলের ফাইনালের স্বপ্নের কুমিল্লাআলহাজ্ব শাহ্ মোহম্মদ আলমগীর খানের ৬৩ তম জন্মদিন পালিত।ইয়োনা একটি বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

প্রজন্মের প্রতি !

মেসবাহ আলমাস মাহমুদ
লেখক, গবেষক এবং সমাজকর্মী
ইমেইল : mesbahwohin73@gmail.com

হ্যা আমি এই প্রজন্মেরই একজন।  প্রজন্মের প্রতিনিধি হতে হলে কোন লাইসেন্স করতে হয় না।  এটা বিবেকের গর্ভে জন্ম নেয়া এক অদ্ভুত বেপার।  আমি এবং আমরা জানি বর্তমান প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ ইতিহাস বিমুখ, বই বিমুখ, সংস্কৃতি বিমুখ।  আর যারা ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে বেপারটা যে কত বড় একটা অভিশাপ এর মতো তা প্রকাশ করার মতো কোন ভাষা অন্তত আমার জানা নেই।
হ্যা তোমাদেরকেই বলছি --
তোমরা (আমার অগ্রজ, অনুজ এবং সহপাঠী)  সকলের প্রতি আমার একটা আর্জি।  তোমাদেরকে ইতিহাস চর্চা করতে হবে না।  আমি গল্পের মতো করে কিছু কথা বলতে চাই তোমাদের।  তোমরা এই অগ্নীঝড়া মার্চ সম্পর্কে অনেক কিছু জানো তাইনা ?
আর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন তোমাদের মুখস্ত।
অনেকেই ভাবো বঙ্গবন্ধু একটা ভাষন দিয়েই বাঙালি জাতিকে জাগ্রত করে ফেলেছিলেন, আর ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ প্রানের বিনিময় ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি বিজয় নিয়ে ফিরেছে।  কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন হয়ে গেল !! 
কত সহজ করে বলে ফেল্লাম তাইনা ?
কিন্তু এই সবকিছুর পেছনে যে কত ইতিহাস লুকায়িত তা কি কখনো ভেবেছো ?  একবারও মন কাঁদেনা নেপথ্যের নায়কদের জন্য ?  কত শত শহীদের নাম মুখস্ত বলতে পারবে ?
অদ্ভুত প্রশ্ন করে ফেল্লাম তাইনা ?  
হে অবশ্যই অদ্ভুত,  কারন ৭ই মার্চের ভাষনটির পেছনে আছে বহুদিনের অপেক্ষা, পরিকল্পনা,  মৃত্যুর নেশা আরও কত কি !!  সবকিছু জানা সম্ভব হলেও বলতে হয়   সম্ভব না। কারন আমরা জানতে চাইনা।  আমাদের জানাতে চায় না।  জানতে দেয়া হয় না। 
অনেক বিরক্তিকর কথা হল,  এবার মূল গল্পে চলে যাই।  ইতিহাসের সত্য গল্পে,  যেখানে কাল্পনিকতার কোন স্থান নেই কখনো।
শোন তবে ----
বাঙালি স্বাধীনতার ইতিহাসে মার্চ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। কারণ ’৭১ সালের এই মার্চ মাসেরই ২৫ তারিখ গভীর রাতে, মানে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিলো; মনে আছে নিশ্চয়ই? শুধু তাই না, ২৫ মার্চ গভীর রাতে, এদেশের নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী; সে ঘটনাও তো তোমাদের জানা আছে। আরও একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কিন্তু ঘটেছিলো এই মাসে। সেটি হচ্ছে- ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। আর সে ঐতিহাসিক ভাষণটি কে দিয়েছিলো, মনে আছে তো? হ্যাঁ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৪৭ সালে তল্পিতল্পা গুটিয়ে, ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায় ব্রিটিশ শাসকরা। কিন্তু যাওয়ার আগে, উপমহাদেশকে দুইটি পৃথক রাষ্ট্রে ভাগ করে দিয়ে যায় ওরা- ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের আবার দু’টি অংশ ছিলো- পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান। হ্যাঁ, আমাদের বাংলাদেশ তখন ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান স্বাধীন হবার পর থেকেই, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের বাঙালিদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছিলো। যেন আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো দামই ছিলোনা তাদের কাছে। মনে নেই, আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানালে, কীভাবে তারা আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছিলো। হত্যা করেছিলো রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ নাম-না-জানা আরও কতোজনকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আমাদের দাবির কাছে তাদের মাথা নত করতেই হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি নিয়ে, তবেই শান্ত হয়েছিল বাঙালিরা।
এরপর আমাদের ওপর আরও কত অন্যায়-অবিচার যে করেছে পশ্চিম পাকিস্তানিরা, তার কোন ইয়ত্তা নেই। অনেকদিন ধরে মুখ বুজে সহ্য করে গেছে বাঙালিরা। কিন্তু কতোদিন আর এভাবে চুপ করে থাকা যায় বলো? শেষ পর্যন্ত, ঠিকই বাঙালিরা গর্জে ওঠে। ’৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুরো পাকিস্তানেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সে সময়কার পাকিস্তানিরা যে অনেক মন্দ ছিলো, সে তো তোমাদের আগেই বলেছি। ওরা করলো কী, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করার পরেও আওয়ামী লীগের হাতে শাসনক্ষমতা দিলো না। আসলে তারা চেয়েছিলো, দেশের পুরো ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রাখতে।
কিন্তু বাঙালিরা কী আর এতো সহজে তা হতে দেবে? কক্ষনো না। শুরু হলো দুর্বার আন্দোলন। ’৭১ সালের ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল পালিত হলো। সেদিনই, এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। ৩ থেকে ৬ তারিখ, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরতাল পালিত হলো। ৩ মার্চ পালন করা হলো শোক দিবস। সেইসঙ্গে ঘোষণা করা হলো, ৭ মার্চ দুপুর ২টায় ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল গণসমাবেশ আয়োজিত হবে; সেখানে ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হ্যাঁ, এই ভাষণটিকেই বলা হয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। ভালো কথা, রেসকোর্স ময়দান চিনেছো তো? যেটা কিনা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে চেনো তোমরা।
কিন্তু এই ৭ মার্চের ভাষণ এতো ঐতিহাসিক আর গুরুত্বপূর্ণ কেন? আসলে, ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-ই অন্তর্নিহিত ছিলো। বঙ্গবন্ধু তার এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিকামী বাংলার মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। মানুষের মাঝে মুক্তির আকাক্সক্ষা জাগিয়ে তুলেছিলেন। সেই সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানিদের টনকও নড়িয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে সেদিন লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠলেন। তারপর ১৯ মিনিটের এক অলিখিত ভাষণ দিলেন; যেন বাংলার মানুষের বুকের কথাগুলোই বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে উচ্চারিত হলো। অচিরেই, ভাষণটির একটি লিখিত ভাষ্যও বিতরণ করা হয়েছিলো। সেই লিখিত ভাষ্যটি অবশ্য তাজউদ্দীন আহমদ কিছুটা পরিমার্জন করে দিয়েছিলেন।
কি বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে? ভাষণ শুরু করেছিলেন এইভাবে- ‘আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।’
এরপর শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলের বিগত আন্দোলনগুলোর কথা বললেন- ‘তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে ১০ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।’
তারপর, তখন বাঙালির ওপর যে অত্যাচার করা হচ্ছিলো, তার কথাও বললেন- ‘কি পেলাম আমরা? যে আমরা পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের ওপর হচ্ছে গুলি। … জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলি করা হয়েছে, কি করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। … আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবো, কার সঙ্গে বসবো? যারা মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসবো? … ২৫ তারিখে এসেম্ব^লি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না।’
তিনি ভাষণে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। কিন্তু হরতাল হলে তো অনেক গরীব দিন-আনে-দিন খায় মানুষের অনেক কষ্ট হয়; সাধারণ মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর তাই, তিনি সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয়, সে ব্যবস্থা করার জন্যও বললেন- ‘গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।’
আর তারপরই তিনি প্রতিরোধের ডাক দেন- ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষেরে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।’
সবশেষে, তিনি উচ্চারণ করলেন সেই অমর বাণী- ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি দেখুন এবারঃ
আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবাই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।
আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম, নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো, এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।
তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলায় নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো; এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।
জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হল।
ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।
আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।
কি পেলাম আমরা? যে আমরা পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলি করা হয়েছে, কি করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।
আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবে, কার সঙ্গে বসবো? যারা মানুষের বুকের রক্ত নিয়ছে তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।
ভাইয়েরা আমার,
২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ঐ শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলি কল করেছে। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে, সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে, আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলিতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।
আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো. ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।
২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল,- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষের দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।
আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবো না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের ময়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।

নোট: আজ এপর্যন্তই থাকুক।  আবারো কথা হবে ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া গল্প থেকে। সাহসী কন্ঠে শুধু ইতিহাস নয়,  বর্তমান প্রেক্ষাপট, সাহিত্য, সংবাদ এবং প্রজন্মের অর্জন বিসর্জন সবকিছু নিয়েই কথা হবে।
সেই পর্যন্ত মহান স্রষ্টা আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন।